টেক বাংলা আইটি https://www.techbanglait.com/2021/10/ABO-Blood-Type-Incompatibility-Between-Mother-and-Baby.html

মায়ের রক্তের গ্রুপের সাথে সন্তানের রক্তের গ্রুপ মিলেনা কেন?

মায়ের রক্তের গ্রুপের সাথে সন্তানের রক্তের গ্রুপ মিলেনা কেন — আমার এক বন্ধু ছিলো। তার রক্তের গ্রুপ O+। কিন্তু তার মায়ের রক্তের গ্রুপ A+। আবার তার বোনের রক্তের গ্রুপও মায়ের সাথে মিলেছে। কিন্তু তারটা মিলছে না। সে এই নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলো। তার মনে একটাই চিন্তা যেহেতু মা জন্ম দিয়েছে তাহলে তো মায়ের সাথে সব কিছুর মিল থাকার কথা সে। ভাবতে লাগলো সে এই পরিবারের সদস্য নয়। 

মায়ের রক্তের গ্রুপের সাথে সন্তানের রক্তের গ্রুপ মিলেনা কেন

তার দুশ্চিন্তা দেখে আমি তাকে সব খুলে বলতে বললে সব খুলে বলে। আমি হাসলাম। আপনারাও কি তার মতো এমন দুশ্চিন্তায় ভুগছেন? ভোগার কোনো প্রয়োজন নেই। কেননা মায়ের ডিম্বাণু ও বাবার শুক্রাণুর সমন্বয়েই শিশুর ভ্রূণ তৈরি হয়। যেহেতু বাবার শুক্রাণু রয়েছে তাই মায়ের সব গুণ পায় না। একজন মানুষের ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। এর অর্ধেক বাবার এবং অর্ধেক মায়ের। যেমনঃ আপনি দেখতে আপনার বাবার মতো হয়েছেন, কিন্তু আপনার চুলগুলো আপনার মায়ের মতো। 

ঠিক তেমনই রক্তের গ্রুপে বাবা- মা দুই জনের রক্তের গ্রুপই বিবেচনা করা হয়। রক্তের মূলত ৪ টি গ্রুপ থাকে। A, B, AB, O। এগুলো রক্তের অ্যান্টিজেন নামে পরিচিত। বাবা-মা দুজনের রক্তের গ্রুপের উপরই সন্তানের রক্তের গ্রুপ নির্ভর করে। বাবা- মা দুজনের রক্তের গ্রুপ B হলে সন্তানের রক্তের গ্রুপ হবে B অথবা O। আবার বাবা-মা এর একজনের রক্তের গ্রুপ A ও অন্যজনের O হলে সন্তানের রক্তের গ্রুপ A অথবা O হয়। 

একই ভাবে বাবা-মা এর মধ্য হতে একজনের রক্তের গ্রুপ A ও অন্যজনের B হলে সন্তানের রক্তের গ্রুপ A, B, AB, O হয়ে থাকে। তাহলে তো বুঝতেই পারছেন বাবা-মা এর রক্তের গ্রুপের উপর সন্তানের রক্তের গ্রুপ নির্ভর করে। এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, অনেক সময় তো রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ থাকে সেক্ষেত্রে? ওইযে বলেছিলাম না রক্তে চার প্রকার অ্যান্টিজেন থাকে। 

ঠিক তেমনই রক্তের সেলের বহিরাবরণে এক ধরনের প্রোটিন থাকে। যাকে আরএইচ বলা হয়। যদি আপনার রক্তের সেল এ আরএইচ ফ্যাক্টর থাকে তাহলে আপনার রক্তের ধরন আরএইচ পজেটিভ। আবার যদি আরএইচ না থাকে আপনার রক্তের ধরন নেগেটিভ। মায়ের রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ থাকলে বাচ্চা জন্ম নেওয়ার সময়ে মা ও শিশু দুই জনেরই ঝুকির সময় সম্ভাবনা থাকে। এক্ষেত্রে আগে থেকে প্রতিকার এর ব্যবস্থা নিতে হবে। আমার বন্ধুকে সব বুঝিয়ে বলার পর তার দুশ্চিন্তা উড়ে গিয়েছে। আপনার কোনো বন্ধুও যদি এমন দুশ্চিন্তায় ভুগে তাহলে তাকে জানাতে ভুলবেন না কিন্তু।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া