টেক বাংলা আইটি https://www.techbanglait.com/2021/04/4-things-to-consider-when-buying-a-router.html

রাউটার কেনার আগে যে ৪টি বিষয় মাথায় রাখবেন

বাসা-বাড়ির জন্য হোক অথবা অফিসের জন্যেই হোক ওয়াইফাই রাউটার কেনার আগে আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সঠিক কোন ওয়াইফাই রাউটারটি আমাদের জন্য কেনা সঠিক হবে তা বিবেচনা করতে ভুলে যাই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে দোকানদার আমাদের হয়ে ওয়াইফাই রাউটার নির্বাচন করে দেয়। আর আমরাও চোখ কান বন্ধ করে সেটি কিনে নিয়ে বাসায় চলে আসি যা একদম ঠিক নয়।

রাউটার কেনার আগে যে ৪টি বিষয় মাথায় রাখবেন

অনেকের ক্ষেত্রে আবার ব্র্যান্ড ভিত্তিক দূর্বলতাও কাজ করে। সেটি হতেই পারে কোন একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের প্রতি বিশ্বাস রাখাটা খারাপ কিছু না। কিন্তু একই ব্র্যান্ডের মধ্যেও আবার যে বিভিন্ন মডেল আছে তা কিন্তু ভুলে গেলে হবে না। সবগুলি ওয়াইফাই রাউটারের মডেলের স্পেসিফিকেশন এবং আমারদের প্রয়োজনের জন্য তার গুরুত্ব কতটুকু তা বুঝে শুনে সঠিক ওয়াইফাই রাউটারটি কিনতে হবে।

রাউটার কেনার আগে যা বিবেচনায় রাখবেন

আপনি নতুন নেটওয়ার্ক সেটআপ করেন অথবা পুরাতন নেটওয়ার্ক আপডেট করুন, উভয় ক্ষেত্রেই রাউটার কেনা অনিবার্য। ওয়াইফাই রাউটার ক্রয় করার আগে বেশ কিছু বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হয় যেমন-

  • রাউটারের স্ট্যান্ডার্ড কেমন
  • রাউটারটি সিংগেল ব্যান্ড নাকি ডুয়াল ব্যান্ড
  • এটির লাইফস্প্যান কেমন
  • নেটওয়ার্ক রেঞ্জ কতটুকু

রাউটারের স্ট্যান্ডার্ড

অফিস হোক অথবা বাসা-বাড়ি হোক বর্তমান সময়ে 802.11ac স্ট্যান্ডার্ডের ওয়াইফাই রাউটারগুলো সব থেকে ভালো পারফরমান্স দিয়ে থাকে। এটা সর্বশেষ আপডেট স্ট্যান্ডার্ড যা আগের 802.11n থেকে খুব বেশি নির্ভরযোগ্য। ধরুন আপনার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার আপনাকে ১০ MBPS স্পীড দেওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। কিন্তু তারপরেও আপনি আপনার কাঙ্খিত স্পীড পাচ্ছেন না। কারণটা কি হতে পারে বলতে পারেন?

সবচেয়ে বেশি সম্ভাবণা হলো আপনার ওয়াইফাই রাউটার 802.11ac স্ট্যান্ডার্ডের না। এই কারণে নতুন রাউটার কেনা বা পুরাতন রাউটার আপডেট করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে সবসময় 802.11ac স্ট্যান্ডার্ডের ওয়াইফাই রাউটারই ক্রয় করুন।

আরও পড়ুনঃ কম্পিউটারের জন্য প্রয়োজনীয় ৫টি সফটওয়্যার

সিংগেল ব্যান্ড নাকি ডুয়াল ব্যান্ড | রাউটার কত প্রকার

ওয়াইফাই রাউটার দুইটি ভিন্ন ভিন্ন ফ্রিকুয়েন্সিতে কাজ করে। তারমধ্যে ১টি হচ্ছে 2.4 GHz এবং অন্যটী হচ্ছে 5 GHz। সিংগেল ব্যান্ডের রাউটারগুলো 2.4 GHz এবং ৫ GHz এর মধ্যে যেকোন ১টিকে সমর্থন করে। অন্যদিকে ডুয়াল ব্যান্ডের ওয়াইফাই রাউটারগুলি 2.4 GHz ও 5 GHz উভয় ব্যান্ডকে সমর্থন করে থাকে এবং দুটি ব্যান্ডকেই একই সাথে ব্যবহারের সুবিধা প্রদান করে থাকে।

ভালো মানের নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি পেতে হলে সিংগেল এবং ডুয়াল ব্যান্ডের মধ্যে যে কোন একটি বেছে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একেক রকমের ডিভাইস একেক রকমের ব্যান্ডে কানেক্ট হয়ে থাকে। যেমন স্মার্টফোন ও ল্যাপটপ 5 GHz ব্যান্ডে কানেক্ট হয়ে থাকে। অন্য ডিভাইসগুলো 5 GHz ব্যান্ডের পাশাপাশি 2.4 GHz ব্যান্ডও কানেক্ট হয়।

আপনি যে এলাকায় বসবাস করেন তার উপর নির্ভর করেও আপনার ব্যান্ডটি নির্বাচন করা উচিত। যদি আপনি খুব বেশি ঘনবসতি পূর্ণ এলাকায় বাস করেন তাহলে ডুয়াল ব্যান্ডের ওয়াইফাই রাউটারগুলো আপনার জন্য খুব বেশি উপযোগী। এই ওয়াইফাই রাউটারগুলি আপনাকে ভালো মানের স্পীড ও নিরবিচ্ছিন্ন কানেশন প্রদান করে থাকবে।

আবার যদি কোন কারণে আপনার উচ্চ গতির ইন্টারন্টের প্রয়োজন না হয় বা আপনার আশেপাশে থাকা প্রতিবেশীর যদি কোন ওয়াইফাই রাউটার না থাকে তাহলে আপনি সিংগেল ব্যান্ডের ওয়াইফাই রাউটার ব্যবহার করতে পারেন।

লাইফ স্প্যান

বাসা-বাড়িতে ব্যবহৃত অন্যান্য হার্ডওয়্যারের থেকে নেটওয়ার্ক হার্ডওয়্যারগুলোতে অনেক বেশি চাপের সৃষ্টি হয়ে থাকে। যার কারনে এগুলোর খুব বেশি সময় ব্যবহারযোগ্য থাকে না। আপনি নিজেই ভেবে দেখুন তো আপনার ওয়াইফাই রাউটারটি একই সাথে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ডেক্সটপ কম্পিউটার, স্ট্রিমিং ডিভাইস, ল্যাপটপ, গেমিং কনসোল ইত্যাদি ডিভাইসের সাথে সুংযুক্ত করা থাকে। অনেক বেশি লোড ও বেশি সময় ধরে ওয়ার্কিং এর কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওয়াইফাই রাউটারের কার্যক্ষমতা কমে যেতে থাকে।

যদি কোন প্রকার কারণ ছাড়াই আপনার ডিভাইস গুলো স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ডেক্সটপ কম্পিউটার, স্ট্রিমিং ডিভাইস, ল্যাপটপ, গেমিং কনসোল ইত্যাদি বার বার নেটওয়ার্ক থেকে ডিসকানেক্ট হয় তাহলে বুঝে নিতে হবে যে আপনার রাউটার পরিবর্তন করার সময় হয়ে গেছে। এই ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই এমন ধরনের ওয়াইফাই রাউটারগুলো কিনতে হবে যেগুলো অনেক বেশি লাইফস্প্যান সমৃদ্ধ হয়ে থাকে। এই ধরনের রাউটারগুলো অন্যান্য রাউটার গুলো থেকে তুলনামূলক একটু বেশি মূল্যের হয়ে থাকে। তবে আমি সাজেস্ট করবো সস্তা ও নিম্নমানের ওয়াইফাই রাউটার কিনার পর ২দিন পরপর সেটা পরিবর্তন করার চেয়ে একটি হাই-কোয়ালিটি ওয়াইফাই রাউটার কেনাই উত্তম।

আরও পড়ুনঃ ফেসবুকে যে কাজগুলো করা উচিত নয়

নেটওয়ার্ক রেঞ্জ | হাই রেঞ্জ রাউটার

আপনি ওয়াইফাই রাউটার থেকে কেমন রকম কানেশন স্পীড পাবেন তা নির্ভর করবে আপনি কোথায় ওয়াইফাই রাউটার স্থাপন করেছেন তার উপরে। ওয়াইফাই রাউটার যত বেশি সম্ভব বাসার মধ্যবর্তী খোলামেলা যায়গায় স্থাপন করতে। সেই সাথে জায়গাটি যেন কোন জানালার আশেপাশে না হয়ে থাকে সেদিকেও লক্ষ্য করতে হবে। কেননা জানালা বা বাইরের দিকে উন্মুক্ত কোন জায়গায় ওয়াইফাই রাউটার বসানো হলে সিগন্যাল লিক করার সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি।

আপনার বাসা কত বেশি বড় ও কতজন ব্যবহারকারী ওয়াইফাই রাউটার ব্যবহার করবে তা কিন্তু নির্ধারন করা হয় রাউটারের রেঞ্জের উপরে। রাউটারের রেঞ্জ কম হলে বড় বাসায় এগুলো ব্যবহার করতে সমস্যা হতে পারে। রাউটারের রেঞ্জ কম হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাউটারে কানেক্ট এর সমস্যা দেখা দেয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে ওয়াইফাই কানেক্ট হলেও খুবই স্লো গতির ইন্টারনেট পাওয়া যায়। এই কারনে ওয়াইফাই রাউটার কিনবার আগে অবশ্যই রেঞ্জের বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে নতুন কোন ISP সংযোগ দেওয়া হলে তারা আপনাকে তাদের কাছ থেকে ওয়াইফাই রাউটার কেনার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকে। আমি সাজেস্ট করবো ISP থেকে ওয়াইফাই রাউটার না কেনার জন্য। অনেক ISP আবার সম্পূর্ণ ফ্রিতে রাউটার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে থাকে। প্রাথমিকভাবে এই অফার গুলো লোভনীয় মনে হলেও পরবর্তীত সময়ে এর সমস্যাগুলি ধরা পড়তে থাকে।

ঠিক কি কি কারনে আপনি ওয়াইফাই রাউটার কিনেছেন সেটা আপনাকে প্রথমেই ভাবতে হবে। যদি ভিডিও স্ট্রিমিং, ভিডিও কলিং, অনলাইন মুভি কিংবা ডাউনলোড করা আপনার প্রধান উদ্দেশ্য হয়  তাহলে অবশ্যই অবশ্যই ভালো স্পীডের দিকে আপনার প্রথম গুরুত্ব হওয়া উচিত।

তাই ওয়াইফাই রাউটার ক্রয় করার পূর্বে এটির স্ট্যান্ডার্ড, ব্যান্ড, সিকিউরিটি, রেঞ্জ, স্পীড ইত্যাদি বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে হবে। প্রয়োজনে অনলাইনে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের রাউটারের রিভিউ দেখে নিবেন। সকল রাউটারে যে সকল ধরনের সুবিধা থাকবে এমনটা ভাবা আপনার ভুল হবে। আবার বাজেটের সাথে মিল রেখে সব ফিচার পাওয়া কষ্টসাধ্য। তাই সকল দিক লক্ষ্য রেখে বাজেটের মধ্যে বেশি ফিচারগুলো পাওয়া যায় এমন ধরনের ওয়াইফাই রাউটার কেনাই ভালো। আর ক্রয় করার পর রাউটারের বেসিক অপারেশন জেনে নেয়া হচ্ছে বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও পড়ুনঃ ওয়্যারলেস চার্জিং যেভাবে কাজ করে

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া